ছবিঃ সংগৃহীত
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের সব জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়াম পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রংপুর জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতেও নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম সংস্কার ও আধুনিক করতে একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার, যার আওতায় রংপুর জেলা স্টেডিয়ামও রয়েছে। এখানে সুইমিং পুল, ইনডোর সুবিধাসহ দরকারি ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা আছে। আটটি বিভাগে ভাগ করে ধাপে ধাপে জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামের সংস্কার ও আধুনিকায়ন হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এসব কাজে কিছুটা সময় লাগবে। রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স ও গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নও ধাপে ধাপে করা হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
রংপুরে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর খেলাধুলাপ্রিয় নগরী; এখান থেকে অতীতে অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছেন, ভবিষ্যতেও আসবেন। তবে নতুন বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানানোর আগে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজন বিবেচনা করে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নিয়ে পরিকল্পনা হবে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে আট বিঘা পর্যন্ত খাসজমি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব জমি সংস্কার করে খেলার উপযোগী মাঠ বানানো হবে, যাতে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ খেলাধুলার সুযোগ পায়।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এর দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) স্থায়ীভাবে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিকেএসপিতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার প্রশিক্ষণ নেবে তারা, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগও পাবে। পরে তাদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সামছুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজু, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা অংশ নেন।